জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৪ জুন ২০১৬

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী

ইসমাত আরা সাদেক ১৯৪২ সালের ১২ ডিসেম্বর বগুড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বগুড়ার সাতানী জমিদার বাড়ীর মরহুম মাহবুবুর রহমান চৌধুরী এবং মরহুমা সায়েরা খাতুনের একমাত্র কন্যা।
 
তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের মধ্যেও তাঁর পরিবার ছিল বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। পরিবারের সদস্যরা ছিলেন শিক্ষিত, উদার ও সংস্কৃতিমনা। সংগীত চর্চার ক্ষেত্রেও ছিল তাদের বিশেষ আগ্রহ। সে সময়ে মুসলিম পরিবারের মহিলাদের লেখাপড়া বিরল থাকলেও তাঁর পরিবারের মহিলা সদস্যদের লেখাপড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে উৎসাহিত করা হত। দাদা খান বাহাদুর হাফিজুর রহমান সমাজসেবক ও দানশীল ব্যক্তি হিসেবে সর্বত্র সমাদৃত ছিলেন।
 
স্বামী প্রয়াত আবু শরাফ হিফজুল কাদের সাদেক (এ, এস, এইচ, কে, সাদেক) ছিলেন সাবেক সচিব, দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও সফল শিক্ষা মন্ত্রী। মরহুম এ, এস, এইচ, কে, সাদেক ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা রূপে স্বীকৃতি প্রদান এবং সুন্দরবনকে ইউনেস্কোর অধীনে World Heritage এর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে সফল হয়েছিলেন। যার স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে ২০১০ সালে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে সম্মানিত করা হয়।
 
তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জননী। তাঁর পুত্র তানভীর সাদেক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এবং কন্যা নওরীন সাদেক একজন স্থপতি প্রকৌশলী।
 
বেগম ইসমাত আরা ১৯৫৬ সালে বগুড়া ভি এম গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৫৮ সালে ঢাকার হলিক্রস কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েড এবং ১৯৬০ সালে ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।
 
১৯৯২ সালে মরহুম এ, এস, এইচ, কে, সাদেক ও ইসমাত আরা সাদেক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাথে সরাসরি যুক্ত হন। যদিও এ দম্পতির আজীবন আওয়ামীলীগের রাজনীতির প্রতি জোরালো সমর্থন ছিল।
 
১৯৯৬ সালে তিনি কেশবপুর মহিলা আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠা এবং সুসংগঠিত করেন। তখন থেকে কেশবপুর মহিলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির ১ নম্বর সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।
 
 
২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ মহিলা কল্যাণ পরিষদের সদস্য হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
 
তিনি দাতব্য প্রতিষ্ঠান 'সাথী সমাজকল্যাণ সংস্থার' প্রেসিডেন্ট হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সংস্থা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা, পোষাক ও শিক্ষা উপকরণসহ আনুষঙ্গিক সব ধরনের সহযোগিতা করে থাকে।
 
এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধে ছিল ইসমাত আরা সাদেকের ও এ, এস, এইচ, কে, সাদেকের বিশেষ অবদান। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহরের এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত এ, এস, এইচ, কে, সাদেকের সরকারী বাসভবন ১নং টেনামেন্ট হাউস ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম ঘাঁটি। মুক্তিযোদ্ধারা প্রায়ই তাঁদের অস্ত্র গোলাবারুদ এই সরকারী বাসভবনে রাখতেন। তাঁরা উভয়েই মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় প্রদানসহ সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করেন।
 
বেগম ইসমাত আরা যশোর-৬ (কেশবপুর) নির্বাচনী এলাকা থেকে ১০ম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১২ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে তাঁকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ১৫ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে থেকে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।


Share with :

Facebook Facebook